১৯৫৪ সালে পূর্ববঙ্গ (East Bengal)–এ গঠিত যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী জোটের সময় তারা বহুল পরিচিত ‘লাঙ্গল’ প্রতীক পেতে না পেরে বিকল্প হিসেবে নৌকা নির্বাচন করে; পরে ওই প্রতীকটি যুক্তফ্রন্ট ভগ্ন হওয়ার পরেও পূর্ব পাকিস্তান/বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধরে রাখে।  পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত জয় পায় — ফলে প্রতীকটির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়ে যায়।

নির্বাচনী প্রতীক মূলত সেই কারণেই আছে যাতে ভোটার — বিশেষত গ্রামের, যেখানে নিরক্ষরতার হার বেশি থাকে — দ্রুত চিনতে পারে কোন প্রার্থী/দল কারা প্রতিনিধিত্ব করছে। এ কারণে প্রতীকগুলো ভোটপ্রচারে ও ভোটকেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক। 

ভূগোলগত ও সাংস্কৃতিক মিল: বাংলাদেশ নদীপ্রধান দেশ; নৌকা গ্রামীণ জীবনের স্বচ্ছ ও ঘনিষ্ঠ চিত্র। নৌকা—কৃষক-জেলে-নদী সম্পর্কিত সাধারণ মানুষের জীবনচর্চার সঙ্গে সহজে মিশে যায়।  জাতীয়-মৌলিক কনটেক্সট: আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও বাংলা জাতীয়তাবাদের সাথে জড়িত ইতিহাস নৌকাকে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি আবেগগত চিহ্ন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একাধিক দলের ব্যবহার ও জোট: বড় জোট বা ছোট সহযোগী দলগুলো মাঝে মাঝে নিজেদের স্বাধীন প্রতীক না রেখে নৌকা নিয়ে অংশ নিতে চায় — এতে নৌকার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা বাড়ে।  কমিউনিকেশন ও লয়্যালটি: নির্বাচনী প্রচারণায় “নৌকা” কথা বা স্লোগান (উদাহরণ: “নৌকা ছাড়া…” ধরনের উক্তি) ব্যবহার করে সমর্থকদের একক Loyal/ব্রান্ড-অ্যাসোসিয়েশনের ধারণা জোরদার করা হয় — অনেক সময় সেটি মজার ছলে বলা হলেও কখনও কখনও সেটি তীব্র দলীয় আনুগত্যও বোঝায়।  

প্রতীক যখন একে–অপরের সঙ্গে এতগুলো ইতিহাস, স্মৃতি, এবং আবেগ জড়িয়ে নেয়, তখন সেটি কেবল লোগো নয়— এটা ভোটার-সনাক্তকরণ, দলীয় হালচাল, এবং মাঝে মাঝে মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি অংশে পরিণত হয়। ফলে “নৌকা ছাড়া কিসের ভোট” ধরনের উক্তি শুধু রাজনৈতিক স্টেটমেন্ট নয়— তা সামাজিক ইতিবাচক/নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে।  

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “নৌকা” হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক।নৌকা ছাড়া কিসের ভোট” 

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান