• ডক্টর সফিকুর রহমানের নারীদের ঘরের বাইরে চলাচল সীমিত করার বক্তব্য শুধু একটি ভুল মন্তব্য নয়—এটি একটি ভয়ংকর মানসিকতার প্রকাশ।

    এই বক্তব্য নারীদের ব্যক্তি হিসেবে অস্বীকার করার শামিল, মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত, এবং একটি স্বাধীন সমাজের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে নারীর স্থান ঘরের ভেতরে, তাহলে সেটি মতামত নয়—সেটি এক ধরনের আদর্শিক সহিংসতা।

    নারী কোনো সম্পত্তি নয়,

    নারী কোনো বোঝা নয়,

    নারী কারও দয়ার ওপর বেঁচে থাকা সত্তা নয়।

    নারী একজন পূর্ণ মানুষ—নিজস্ব চিন্তা, স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তের অধিকারী।

    আজ নারী শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা।

    এই নারীদের ঘরে আটকে রাখার চিন্তা মানে গোটা সমাজকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা।

    এই বক্তব্য ধর্ম নয়, রাজনীতি

    এই ধরনের বক্তব্যকে অনেক সময় ধর্মের মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নারীর স্বাধীনতা খর্ব করা কোনো ধর্মীয় আদর্শ নয়—এটি ক্ষমতার রাজনীতি।

    ধর্ম কখনো অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায় না।

    অন্যায়কে ধর্মের নামে বৈধতা দেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।

    সমাজের অর্ধেক মানুষকে থামিয়ে দিলে সমাজও থেমে যায়

    একটি সমাজ যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরে বন্দি করে,

    তাহলে সেই সমাজ কখনো উন্নত হতে পারে না,

    সেই সমাজ কখনো ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না,

    সেই সমাজ কখনো মানবিক হতে পারে না।

    নারীর চলাচল সীমিত করা মানে—

    শিক্ষা সীমিত করা,

    অর্থনীতি সীমিত করা,

    চিন্তাকে সীমিত করা,

    ভবিষ্যৎকে সীমিত করা।

    এই বক্তব্য বিপজ্জনক কেন?

    কারণ এমন বক্তব্য:

    নারীর প্রতি সহিংসতাকে উৎসাহিত করে পুরুষতান্ত্রিক দমননীতিকে শক্তিশালী করে তরুণদের মনে বিকৃত ধারণা তৈরি করে সমাজকে বিভক্ত করে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়

    এটি শুধু একটি মন্তব্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। এবং সেই বার্তা হলো: নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

    এই চিন্তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

    আমার অবস্থান স্পষ্ট

    আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

    আমি এই চিন্তাধারাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।

    আমি নারীর স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সমানাধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াই।

    আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না,

    যেখানে মেয়েরা ভয় নিয়ে রাস্তায় হাঁটে,

    যেখানে মেয়েদের স্বপ্নকে ‘অপরাধ’ বলা হয়,

    যেখানে স্বাধীনতাকে ‘অশ্লীলতা’ বলা হয়।

    আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—

    যেখানে নারী তার ইচ্ছেমতো চলবে,

    পড়বে, কাজ করবে, নেতৃত্ব দেবে,

    এবং মাথা উঁচু করে বাঁচবে।

    শেষ কথা

    নারীকে ঘরে বন্দি করার চিন্তা মানে সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।

    এই যুদ্ধ আমরা মেনে নেব না।

    এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে নীরবতা মানে সম্মতি।

    আর আমি নীরব থাকব না।

    আমি প্রতিবাদ করি।

    আমি নিন্দা জানাই।

    আমি নারীর পক্ষে দাঁড়াই।

  • ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি (১৭০০–১৮৫৮) মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু ক্রমে এটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে আনে। কোম্পানি প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং কর আদায়ের মাধ্যমে স্থানীয় শাসকদের উপর প্রভাব বিস্তার করত। তার কৌশলগুলোকে মূলত কয়েকটি মূল দিক দিয়ে সংক্ষেপে বোঝা যায়:

    অর্থনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর কর আরোপ এবং মণি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি আয়ের বড় অংশ নিজের হাতে রাখত। এতে স্থানীয় জনগণের স্বাধীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হতো। রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় রাজা ও নায়কদের সাথে চুক্তি বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত করত। এতে কোম্পানির স্বার্থের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন সীমিতভাবে কাজ করতে পারত। সামরিক কৌশল: কোম্পানি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও দস্যু নীতি ব্যবহার করে বিরোধী গোষ্ঠী দমন করত। স্থানীয় বিদ্রোহ দমন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ছিল তাদের কৌশলের অংশ।

    যদি আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা ভাবি, “ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির কায়দায়” বলতে বোঝানো যেতে পারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করা, যেমন—বিদেশি সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সম্পদ বা নীতি প্রভাবিত করা। অর্থাৎ সরাসরি শাসন না করেও অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে দেশে প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।

    উপসংহারে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কায়দায় সরাসরি শাসন না হলেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা দুর্বল করার প্রবণতা আজও বিদ্যমান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাব যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে জাতীয় স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতএব, শক্তিশালী অর্থনীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলাই এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।

  • ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই অস্থিতিশীলতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা দুর্বল করে তুলেছে এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া এই সংকটের ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    প্রথমত, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন এবং সহিংসতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট অস্থিতিশীলতাকে আরও তীব্রতর করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা সামাজিক অশান্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

    তৃতীয়ত, সামাজিক অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং অপরাধপ্রবণতার বৃদ্ধি সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব দেখা দিচ্ছে, যা সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে তুলছে।

    চতুর্থত, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সুশাসনের অভাব সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের দুর্বল প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করেছে। ফলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

    উপসংহারে বলা যায়, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক অকার্যকারিতা একত্রে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিপন্ন করছে। এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং সামাজিক শান্তি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতএব, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

  • 1 অন্ধ সমর্থন যেমন ভুল, অন্ধ বিরোধিতাও তেমনি ভুল।

    2 মানুষ নয়, কাজ দেখেই বিচার করতে হয়।

    3 আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে সত্য খুঁজতে হয়।

    4 একপক্ষের কথা শুনলে অর্ধেক সত্যই জানা হয়।

    5 আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—নেতাও নয়।

    6 যা জনগণের উপকার করে, সেটাই প্রকৃত ভালো।

    7 ক্ষমতার জন্য অন্যায় হলে তা খারাপই থাকে।

    8 ভুল হলে প্রিয় নেতাকেও প্রশ্ন করতে হয়।

    9 সত্য সাধারণত দুই চরমের মাঝখানে থাকে।

    10 বিবেককে দল নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে শেখাতে হয়।

    সংক্ষেপে:

    সবকিছু না ভালো, না খারাপ—বিচারটা আমাদের বিবেকের।

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এবং সর্বাধিক জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির যে প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হচ্ছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে না; বরং গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার পথ প্রশস্ত করবে।

    গণতন্ত্র কি সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি বিলুপ্তির পথে?

    বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—যে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেটাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি?

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি এই দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দলটি দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। এমন একটি দলকে বাদ দিয়ে যদি কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন হতে পারে না।

    ১২ই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নির্বাচনকে সাধারণত “অসম্পূর্ণ নির্বাচন” (partial election) বলা হয়, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা সমান ও সর্বজনগ্রাহ্য নয়।

    এই কারণেই আমি মনে করি, “ভোটকেন্দ্রে যাব না, ভোটও দেব না”—এটা কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি প্রতিবাদ। এটি এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    গণতন্ত্র কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে বহুমত, বহুদল, ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হবে, জনগণের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

    আজ আমাদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি কেবল একটি তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই, নাকি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া চাই? যদি উত্তর দ্বিতীয়টি হয়, তবে সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো বর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি। বরং সংলাপ, অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র টিকে থাকে। সুতরাং ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি এই মূল্যবোধ ধারণ করতে না পারে, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিজয় নয়—গণতন্ত্রের পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।সুতরাং প্রশ্নটি কেবল একটি নির্বাচনের নয়; প্রশ্নটি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে। নির্বাচন যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

  • একটি দেশের রাষ্ট্রচরিত্র বোঝা যায় সে দেশের সংবিধান দিয়ে নয়, বোঝা যায় সেখানে দুর্বল মানুষ কতটা নিরাপদ। আজ বাংলাদেশে প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে—

    “এই দেশে বিধর্মীরা সংসদে থাকতে পারবে না।”

    এই বক্তব্য কোনো সাধারণ কথাবার্তা নয়। এটি সরাসরি একটি ঘোষণাপত্র:

    বাংলাদেশকে আর নাগরিক রাষ্ট্র নয়, ধর্মীয় রাষ্ট্রে রূপান্তর করার ঘোষণা।

    প্রশ্ন হলো—

    যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ, সেই দেশ কার?

    মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ

    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে।

    সে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ।

    তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছিল একটি রাষ্ট্র, যেখানে ধর্ম নয়—নাগরিকত্বই পরিচয়।

    আজ যদি বলা হয়,

    হিন্দু সংসদে যাবে না খ্রিষ্টান রাষ্ট্র চালাতে পারবে না বৌদ্ধ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না

    তাহলে সেটা শুধু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়,

    সেটা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।

    সংবিধান ছিঁড়ে ফেলার ঘোষণা

    বাংলাদেশের সংবিধান বলে—

    সকল নাগরিক সমান। ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না।

    কিন্তু ধর্মীয় রাজনীতির মুখপাত্ররা আজ বলছে—

    “এটা মুসলমানের দেশ, অন্যরা শাসন করবে কেন?”

    এই বক্তব্য মানে দাঁড়ায়—

    সংবিধান বাতিল নাগরিকত্ব বাতিল গণতন্ত্র বাতিল

    এটা কোনো মতামত নয়,

    এটা রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতি।

    ইতিহাস জানে এই পথের শেষ কোথায়

    যখনই কোনো দেশে বলা হয়েছে—

    “এই দেশ শুধু আমাদের ধর্মের”

    সেখানেই শুরু হয়েছে—

    সংখ্যালঘু নিধন নারী অধিকার ধ্বংস ভিন্নমত দমন ভয় ও রক্তের রাজনীতি

    আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপ—সবই এই দর্শনের ফল।

    বাংলাদেশ কি সেই তালিকায় নাম লেখাতে চায়?

    রাষ্ট্রের নীরবতা = সম্মতি

    একজন ব্যক্তি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের কথা বলে।

    আর রাষ্ট্র বলে—

    লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”

    এই নীরবতা কোনো প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়।

    এই নীরবতা রাজনৈতিক বার্তা।

    বার্তাটা হলো—

    এই বক্তব্য সহনীয়

    এই ঘৃণা বৈধ

    এই রাজনীতি অনুমোদিত

    এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।

    এই লড়াই শুধু সংখ্যালঘুদের নয়

    অনেকে ভাবছে—এটা শুধু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের সমস্যা।

    এটা ভুল।

    ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রথমে সংখ্যালঘুদের দমন করে,

    তারপর নারীদের,

    তারপর ভিন্নমতাবলম্বী মুসলমানদের,

    শেষে নিজের সন্তানদেরই খায়।

    এটা ইতিহাসের নিয়ম।

    দেশ কার?

    যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ—

    সে দেশ কি জনগণের?

    সে দেশ কি মুক্তিযুদ্ধের?

    সে দেশ কি সংবিধানের?

    না।

    সে দেশ হয়—

    একদল উগ্র মতাদর্শীর একদল ধর্ম ব্যবসায়ীর একদল ক্ষমতালোভীর

    রাষ্ট্র আর থাকে না,

    থাকে শুধু ভয়।

    এখনই সিদ্ধান্তের সময়

    বাংলাদেশ আজ দুই পথের সামনে দাঁড়িয়ে—

    এক পথ:

    সংবিধান গণতন্ত্র সমান অধিকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

    আরেক পথ:

    ধর্মীয় একনায়কত্ব মধ্যযুগীয় শাসন সংখ্যালঘু নিধন ভয় ও বিভাজন

    মাঝামাঝি কোনো রাস্তা নেই।

    উপসংহার বলতে চাই ,,,,,

    যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ—

    সে দেশ আর বাংলাদেশ থাকে না।

    সে দেশ হয়ে যায় একটি গোষ্ঠীর দখলকৃত ভূখণ্ড।

    বাংলাদেশ কোনো গোষ্ঠীর নয়।

    বাংলাদেশ সবার।

    আর এই সত্য রক্ষার দায়িত্ব শুধু সংখ্যালঘুদের নয়—

    এই দায়িত্ব প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের।

    কারণ আজ যদি সংখ্যালঘুর অধিকার কাড়া যায়,

    আগামীকাল কাড়া হবে আপনারটাও।

  • ইনসাফ তখনই অদৃশ্য হয়ে যায়, যখন

    আইনের আগে মানুষ নয়, পরিচয় বড় হয়ে যায় সত্যের আগে শক্তি বড় হয়ে যায় আর্তনাদের আগে রাজনীতি বড় হয়ে যায়

    একজন বাবার কান্না, একজন পরিবারের ভেঙে পড়া জীবন—এসব কি শুধু খবরের শিরোনাম হবে? নাকি আমাদের বিবেক নাড়া দেবে?

    আজ সাদ্দাম, কাল হয়তো অন্য কোনো নাম।

    নাম বদলাবে, কিন্তু প্রশ্ন একই থাকবে—

    দোষ কার? অপরাধীর, না নীরব দর্শকের?

    ইনসাফ কোনো দলের সম্পত্তি না, কোনো ক্ষমতার দাস না।

    ইনসাফ মানে—

    দুর্বলও ন্যায় পাবে, শক্তিশালীও জবাবদিহি করবে।

    যদি সেটা না হয়, তাহলে রাষ্ট্র থাকবে, আইন থাকবে—

    কিন্তু ন্যায়বিচার থাকবে না।

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দিন।

    নীরবতা যেন আর জুলুমের অংশ না হয়। ✊

  • ৭ই মার্চ ১৯৭১ স্থান: রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), ঢাকা l বক্তা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রোতা: লক্ষ লক্ষ মানুষ, পুরো জাতিl

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। পূর্ব পাকিস্তানে দমন-পীড়ন, বৈষম্য ও সামরিক হুমকি চরমে ওঠে। এই সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু জাতির দিকনির্দেশনা দিতে ৭ই মার্চ ভাষণ দেন।

    সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করেও স্বাধীনতার প্রস্তুতির স্পষ্ট নির্দেশ। অসহযোগ আন্দোলন: প্রশাসন, আদালত, অফিস—সব ক্ষেত্রে জনগণকে অসহযোগে অংশ নিতে বলা। সংগ্রামের ডাক: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” শৃঙ্খলা ও ঐক্য: ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা, কিন্তু শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান।

    পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের পথে প্রস্তুত করে। কার্যত এটি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে।

    ২০১৭ সালে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে “Memory of the World Register”-এ অন্তর্ভুক্ত করে—বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান🇧🇩বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা।

    বাঙালির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান—সবখানেই অগ্রণী ভূমিকা ৭ই মার্চ ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক ভাষণে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণা দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় ,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শশোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন অসাধারণ বক্তা, জননেতা ও সাহসী সংগ্রামী জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করতেন।

    অমর বাণী

    “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

    যারা আওয়ামী লীগ নিয়ে কতু কথা বলে ,তাদের ইস্পস্ত করে বলতে চাই ,খুব দূরে নয় অচিরেই শুনবো আবার শেখ মুজিবুর রহমানের অমর বাণী“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসার নাম , আওয়ামীলীগ 😍শেখ হাসিনা।

  • জনগণকে বড় স্বপ্ন দেখানো হয়
    কিন্তু বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথ দেখানো কম

  • ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় দিন।১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পায়।

    কেন যুদ্ধ শুরু হয়:…..::

    ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ছিল সংখ্যায় বেশি,কিন্তু তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভাষাগতভাবে বঞ্চিত ছিল।১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পাকিস্তানি সরকার ক্ষমতা দেয়নি।

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হামলা চালায় (অপারেশন সার্চলাইট)। এর পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।নয় মাসের যুদ্ধ,এই হত্যাযজ্ঞের পর বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেন।নারী, শিশু, সাধারণ মানুষ—সবাই এই যুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার করেন।নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে।এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

    এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা সহজে আসেনি ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই বিজয় এসেছে দেশপ্রেম ও ঐক্যের শক্তি অপরিসীম.l

    সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।তাঁদের আত্মত্যাগেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা ও লাল-সবুজের পতাকা।চিরস্মরণীয় আপনারা।জয় বাংলা! 🇧🇩.,জয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান•’????