• আগস্ট এলেই বাংলার আকাশ যেন একটু বেশি ভারী হয়ে ওঠে। বাতাসে মিশে যায় ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস, আর স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই দিনের স্মৃতি আজও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

    একটি জাতি তখনই পরিণত হয়, যখন সে তার ইতিহাসকে ভুলে যায় না। ইতিহাসের আনন্দ যেমন আমাদের গর্বিত করে, তেমনি বেদনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। শোক কেবল অশ্রুর নাম নয়; শোক হলো স্মৃতিকে মর্যাদা দেওয়া, অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর করার অঙ্গীকার।

    আগস্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস দীর্ঘস্থায়ী। তাই ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাই হতে পারে একটি সুন্দর বাংলাদেশের ভিত্তি।

    আসুন, আমরা ইতিহাসকে সম্মান করি, শোককে মর্যাদা দিই এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় করি, যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু সহিংসতার স্থান থাকবে না।

    সকল নিহতের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া।

  • একটি প্রাণের মূল্য কি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে?

    এই প্রশ্নটি আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।

    সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কাঁধে দেখা যাওয়া একটি বন্দুকের লাইসেন্সধারী মালিক ছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন রেজা। বিভিন্ন সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ৫ আগস্টের পর তিনি নিজ বাসায় নিহত হন এবং পরে তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে এ-ও দাবি করা হয় যে, পরবর্তীতে ওই বন্দুকটি নিয়ে ফটোসেশন করা হয়। এসব দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশে এত বেশি সহিংসতা, প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে যে, অনেক হত্যাকাণ্ড জনআলোচনার আড়ালে চলে গেছে। কিন্তু একটি পরিবারও তাদের প্রিয়জনকে ভুলে যায় না। প্রতিটি লাশের পেছনে থাকে একটি ভেঙে পড়া পরিবার, অসংখ্য অশ্রু এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষা।

    একইভাবে, রাজশাহীর পঙ্গু ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের মৃত্যুর ঘটনাও বহু মানুষের মনে প্রশ্ন রেখে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, তিনি নবজাতক সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে বের হওয়ার সময় নিহত হন। তাঁর হত্যার বিচারও আজ বহু মানুষের প্রত্যাশা।

    আইনের চোখে একজন মানুষ শুধু একজন মানুষ। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা দলীয় অবস্থান কখনোই বিচার পাওয়ার অধিকারকে নির্ধারণ করতে পারে না। যে-ই নিহত হোন, যে-ই অপরাধী হোক—সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আমরা প্রতিশোধের নয়, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ চাই। এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে কোনো হত্যাকাণ্ড চাপা পড়ে থাকবে না, কোনো পরিবার বিচারহীনতার বোঝা বয়ে বেড়াবে না এবং আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

    বিচার হোক সকল হত্যাকাণ্ডের। ন্যায়বিচার হোক সবার জন্য—বৈষম্যহীনভাবে।

  • গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, আমি সেই রায়ের সঙ্গে একমত নই।

    আমার মতে, কোনো ঘটনার দায় নির্ধারণ ও বিচার অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাই আমি মনে করি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

    আমি একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে কেবল আইনের ভিত্তিতে।

  • ঐতিহাসিক ২৩ জুন। বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

    ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের সঙ্গে দলটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    দীর্ঘ ৭৭ বছরের পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমরা স্মরণ করি দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল সংগ্রামী মানুষকে।

    ঐতিহাসিক এই দিনে প্রত্যাশা—গণতন্ত্র, উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের কল্যাণে দেশ এগিয়ে যাবে আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে।

    শুভ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 🇧🇩

  • বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে Sheikh Hasina একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পদ্মা সেতুসহ বেশ কিছু বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের উন্নয়নের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে।

    অনেকের মতে, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে বলে সমর্থকরা মনে করেন।

    তবে বর্তমান সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিভাজন, সংঘাত, অস্থিরতা এবং পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা দেশের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অনেকে মনে করেন। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের মাধ্যমেও নিশ্চিত হয়।

    বাংলাদেশ আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি। তাই মত-পথ ভিন্ন হলেও দেশের স্বার্থে শান্তি, সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ জরুরি।

    বাংলাদেশ কোন পথে যাচ্ছে?

    একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনগণের নিরাপত্তার ওপর। আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

    আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে, বর্তমান সরকার, বিএনপি এবং জামায়াত—প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তিরই দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন সংঘাত, বিভাজন এবং অস্থিরতার দিকে ধাবিত হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ।

    বাংলাদেশের মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও নিরাপদ রাষ্ট্র চায়। তারা রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

    আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, কিন্তু দেশবিরোধী বিভাজন থাকবে না; সমালোচনা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না; ক্ষমতার প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না।

    বাংলাদেশ কারও একার নয়—এ দেশ ১৮ কোটি মানুষের। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া।

    বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় হোক—এটাই প্রত্যাশা। 🇧🇩

  • বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১১ জুন একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে কারামুক্তি লাভ করেন আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, দেশরত্ন Sheikh Hasina। তাঁর কারামুক্তি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার মুক্তিই ছিল না, বরং তাঁর সমর্থকদের কাছে ছিল গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রত্যাশার সূচনা।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে তাঁর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন।

    ১১ জুনের এই দিনটি তাই অনেকের কাছে সাহস, সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে নেতৃত্ব, আদর্শ ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার কখনো কারাগারের দেয়ালে আটকে রাখা যায় না।

    আজ, কারামুক্তি দিবসে তাঁর সমর্থকরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার কথা ভাবছেন। তাঁদের বিশ্বাস, দেশের প্রয়োজনে তিনি আবারও জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন।

    দেশের জন্য প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন।
    শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।

    জয় বাংলা।
    জয় বঙ্গবন্ধু।
    জয় শেখ হাসিনা।

  • বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, সংগ্রাম এবং উন্নয়নের ইতিহাসের সাথে মিশে থাকা একটি নাম। এই দলের ইতিহাস যেমন দেশের ভেতরের মানুষের রক্ত ও ঘামে ভেজা, ঠিক তেমনি এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদান। প্রবাসে থেকেও বুকের ভেতর লাল-সবুজ পতাকা আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ধারণ করে প্রবাসীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা এক কথায় অনন্য।

    আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রবাসীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।

    ১. সংকটে ও সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আজকের নয়, এটি ঐতিহাসিক।

     ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালে প্রবাসীরা (বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা) বিশ্বজনমত গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

     বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিরোধ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থমকে গিয়েছিল, তখন প্রবাসীরাই প্রথম বিশ্ব দরবারে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।

     নেত্রীর পাশে প্রবাসীরা: শেখ হাসিনার প্রবাস জীবনের দিনগুলোতে এবং পরবর্তীতে ১/১১-এর মাইনাস ফর্মুলা সরকারের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

    ২. বিশ্ব দরবারে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনির্মাণ

    যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রবাসী শাখা রয়েছে।

     এই শাখাগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড (যেমন: পদ্মা সেতু, মেট্রেোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) তুলে ধরে।

     দেশবিরোধী যেকোনো অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রবাসে বসেই তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

    ৩. স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধার জোগান

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে প্রবাসীরা বড় শক্তি।

     প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী এবং শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী।

     তারা তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখছেন।

    ৪. অর্থনৈতিক শক্তি: রেমিট্যান্স ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

    রাজনীতি শুধু মাঠের স্লোগানে হয় না, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও রাজনীতি নির্ভর করে।

     প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

     আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের যে বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। অর্থনৈতিক এই শক্তি সরকারকে রাজনৈতিকভাবেও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

    ৫. প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার

    রাজনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন দ্বিমুখী, তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারও প্রবাসীদের মূল্যায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে:

     ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ: প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রবাসে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

     প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: প্রবাসীদের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

     হাই-টেক ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড: প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক খাত তৈরি করা হয়েছে।

    হয়েছে।

    শেষ কথা

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবাসীরা কেবলই দলের সমর্থক নন, তারা একেকজন “অননুমোদিত রাষ্ট্রদূত”। সুদূর পরবাসে থেকেও দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা দল ও দেশের জন্য এক বিশাল সম্পদ। প্রবাসীদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দলীয় ফোরামে তাদের মূল্যায়ন এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা সময়ের দাবি।

    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

  • ১৭ মে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। এই দিনটি শুধু একজন নেত্রীর দেশে ফেরার গল্প নয়, বরং একটি জাতির নতুন করে আশা খুঁজে পাওয়ার ইতিহাস। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার সময় পেরিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির জন্য ছিল সাহস, নেতৃত্ব ও উন্নয়নের নতুন বার্তা।

    বাংলার উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে তিনি বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়।

    শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজনৈতিক সংকট কিংবা কঠিন সময়—সবকিছু মোকাবিলা করে তিনি দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেই কোটি মানুষের হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

    আজকের এই সময়ে অনেকেই বিশ্বাস করেন, দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তাই ১৭ মে’র এই ঐতিহাসিক দিনে আবারও স্মরণ করা হয় তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই অধ্যায়, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। 🇧🇩

  • ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন।
    হাজারো বাধা পেরিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলেন জননেত্রী Sheikh Hasina।
    তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের মানুষের মনে জাগিয়েছিল নতুন স্বপ্ন, নতুন সাহস।
    শুভ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ❤️🇧🇩

  • শিশুর লাশ কোনো রাজনীতি না, এটা পুরো জাতির ব্যর্থতা।
    ক্ষমতায় যারা আছে, তাদের দায়িত্ব ছিল মানুষের জীবন রক্ষা করা। আর বিরোধীদের দায়িত্ব ছিল সত্যিকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।হামে মারা গেছে ৩৫২ নিষ্পাপ শিশু।
    কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?
    সরকার কি তাদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?
    বিরোধীরা কি শুধু রাজনীতি ছাড়া মানুষের জীবনের কথা ভাবছে?

    শিশুর মৃত্যু কোনো দল দেখে না।
    এই কান্না পুরো জাতির।