একটি প্রাণের মূল্য কি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে?

এই প্রশ্নটি আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কাঁধে দেখা যাওয়া একটি বন্দুকের লাইসেন্সধারী মালিক ছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন রেজা। বিভিন্ন সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ৫ আগস্টের পর তিনি নিজ বাসায় নিহত হন এবং পরে তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে এ-ও দাবি করা হয় যে, পরবর্তীতে ওই বন্দুকটি নিয়ে ফটোসেশন করা হয়। এসব দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশে এত বেশি সহিংসতা, প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে যে, অনেক হত্যাকাণ্ড জনআলোচনার আড়ালে চলে গেছে। কিন্তু একটি পরিবারও তাদের প্রিয়জনকে ভুলে যায় না। প্রতিটি লাশের পেছনে থাকে একটি ভেঙে পড়া পরিবার, অসংখ্য অশ্রু এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষা।

একইভাবে, রাজশাহীর পঙ্গু ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের মৃত্যুর ঘটনাও বহু মানুষের মনে প্রশ্ন রেখে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, তিনি নবজাতক সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে বের হওয়ার সময় নিহত হন। তাঁর হত্যার বিচারও আজ বহু মানুষের প্রত্যাশা।

আইনের চোখে একজন মানুষ শুধু একজন মানুষ। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা দলীয় অবস্থান কখনোই বিচার পাওয়ার অধিকারকে নির্ধারণ করতে পারে না। যে-ই নিহত হোন, যে-ই অপরাধী হোক—সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমরা প্রতিশোধের নয়, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ চাই। এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে কোনো হত্যাকাণ্ড চাপা পড়ে থাকবে না, কোনো পরিবার বিচারহীনতার বোঝা বয়ে বেড়াবে না এবং আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

বিচার হোক সকল হত্যাকাণ্ডের। ন্যায়বিচার হোক সবার জন্য—বৈষম্যহীনভাবে।

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান