আজকের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গভীরভাবে আলোচিত ঘটনা। সাতজন রাজনৈতিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুতর—মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও সহিংসতায় ভূমিকার মতো ভয়াবহ অভিযোগ আদালতে উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিচার হওয়া প্রয়োজন।

আমরা যদি সত্যিই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ চাই, তাহলে অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হতে হবে একই মানদণ্ডে। আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক, জামায়াত হোক কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল—অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেই বিচারপ্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড এমন একটি শাস্তি, যা একবার কার্যকর হয়ে গেলে ভুল সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকে না। তাই এমন রায়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করার অধিকার, আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিয়ে জনআস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি কারও অপরাধকে সমর্থন করছি না। জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় যারা মানুষ হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে বা সহিংসতার নির্দেশ দিয়েছে—তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।

কিন্তু বিচার চাই—বিচারের নামে প্রতিহিংসা চাই না।

আজ যারা ক্ষমতার বাইরে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্ষমতার পালাবদল হলে যেন একই অস্ত্র অন্য কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়—সেটিই আমাদের ভাবতে হবে।

একটি সভ্য রাষ্ট্রের শক্তি কতজনকে ফাঁসি দিতে পারে, সেখানে নয়।

একটি সভ্য রাষ্ট্রের শক্তি হলো—
সে তার সবচেয়ে কঠিন অভিযুক্তকেও ন্যায়বিচারের অধিকার দিতে পারে কি না।

আমাদের দরকার এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে অপরাধের বিচার হবে, কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় বিচারকে প্রভাবিত করবে না। যেখানে আদালত হবে প্রতিশোধের জায়গা নয়, সত্য উদঘাটনের জায়গা।

ন্যায়বিচার হোক।অপরাধীর শাস্তি হোক।কিন্তু সেই শাস্তি যেন প্রতিহিংসার ইতিহাস তৈরি না করে।

কারণ আজকের অন্যায় যদি আমরা শুধু “আমাদের পক্ষে” বলে মেনে নিই, কাল সেই অন্যায়ই হয়তো অন্য কারও হাতে আমাদের দরজায় ফিরে আসবে।

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান