বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, সংগ্রাম এবং উন্নয়নের ইতিহাসের সাথে মিশে থাকা একটি নাম। এই দলের ইতিহাস যেমন দেশের ভেতরের মানুষের রক্ত ও ঘামে ভেজা, ঠিক তেমনি এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদান। প্রবাসে থেকেও বুকের ভেতর লাল-সবুজ পতাকা আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ধারণ করে প্রবাসীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা এক কথায় অনন্য।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রবাসীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।

১. সংকটে ও সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আজকের নয়, এটি ঐতিহাসিক।

 ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালে প্রবাসীরা (বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা) বিশ্বজনমত গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

 বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিরোধ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থমকে গিয়েছিল, তখন প্রবাসীরাই প্রথম বিশ্ব দরবারে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।

 নেত্রীর পাশে প্রবাসীরা: শেখ হাসিনার প্রবাস জীবনের দিনগুলোতে এবং পরবর্তীতে ১/১১-এর মাইনাস ফর্মুলা সরকারের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

২. বিশ্ব দরবারে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনির্মাণ

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রবাসী শাখা রয়েছে।

 এই শাখাগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড (যেমন: পদ্মা সেতু, মেট্রেোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) তুলে ধরে।

 দেশবিরোধী যেকোনো অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রবাসে বসেই তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

৩. স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধার জোগান

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে প্রবাসীরা বড় শক্তি।

 প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী এবং শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী।

 তারা তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখছেন।

৪. অর্থনৈতিক শক্তি: রেমিট্যান্স ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

রাজনীতি শুধু মাঠের স্লোগানে হয় না, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও রাজনীতি নির্ভর করে।

 প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

 আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের যে বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। অর্থনৈতিক এই শক্তি সরকারকে রাজনৈতিকভাবেও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

৫. প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার

রাজনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন দ্বিমুখী, তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারও প্রবাসীদের মূল্যায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে:

 ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ: প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রবাসে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: প্রবাসীদের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 হাই-টেক ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড: প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক খাত তৈরি করা হয়েছে।

হয়েছে।

শেষ কথা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবাসীরা কেবলই দলের সমর্থক নন, তারা একেকজন “অননুমোদিত রাষ্ট্রদূত”। সুদূর পরবাসে থেকেও দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা দল ও দেশের জন্য এক বিশাল সম্পদ। প্রবাসীদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দলীয় ফোরামে তাদের মূল্যায়ন এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা সময়ের দাবি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান