আজ দেশের সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম, যেখানে প্রতিদিনের জীবনযাপনই মানুষের জন্য নতুন নতুন সংকট হয়ে দাঁড়াবে?
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। কিন্তু আজ জনগণের মধ্যে নানা বিষয়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান কোথায়?
১. জ্বালানি সংকট: তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।
২. চিকিৎসা খাত: হাসপাতালের অনিয়ম, চিকিৎসাসেবার মান এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
৩. দ্রব্যমূল্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সংসার চলবে কীভাবে?
৪. বিদ্যুৎ ও গ্যাস: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যায় জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হলে এর দায়ভার কে নেবে?
৫. আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার: মানুষ রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে না, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাইতে পারবে না—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
৬. জননিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তবে এই প্রশ্ন শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
সরকারের কাছে আমার স্পষ্ট প্রশ্ন:
- জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি কোথায়?
- চিকিৎসা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে জবাবদিহি কোথায়?
- জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কী?
জনগণ কোনো সরকারের কাছে অনুগ্রহ চায় না। জনগণ তাদের অধিকার চায়। সরকার জনগণের সেবক, জনগণের শাসক নয়।
আমরা চাই প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রতিটি অনিয়মের জবাবদিহি এবং জনগণের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান।
যদি কোনো সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, সাংবিধানিক অধিকার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির পথ উন্মুক্ত থাকতে হবে।
আজ প্রশ্ন একটাই—জাতি কি ঘুমিয়ে গেছে? নাকি আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভুলে গেছি?
দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দেশ জনগণের। জনগণের কণ্ঠস্বর কখনো উপেক্ষা করা যায় না।
জবাব চাই, জবাবদিহি চাই, জনগণের অধিকার চাই।

মন্তব্য করুন