বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এবং সর্বাধিক জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির যে প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হচ্ছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে না; বরং গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার পথ প্রশস্ত করবে।

গণতন্ত্র কি সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি বিলুপ্তির পথে?

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—যে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেটাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি এই দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দলটি দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। এমন একটি দলকে বাদ দিয়ে যদি কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন হতে পারে না।

১২ই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নির্বাচনকে সাধারণত “অসম্পূর্ণ নির্বাচন” (partial election) বলা হয়, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা সমান ও সর্বজনগ্রাহ্য নয়।

এই কারণেই আমি মনে করি, “ভোটকেন্দ্রে যাব না, ভোটও দেব না”—এটা কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি প্রতিবাদ। এটি এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গণতন্ত্র কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে বহুমত, বহুদল, ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হবে, জনগণের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

আজ আমাদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি কেবল একটি তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই, নাকি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া চাই? যদি উত্তর দ্বিতীয়টি হয়, তবে সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো বর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি। বরং সংলাপ, অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র টিকে থাকে। সুতরাং ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি এই মূল্যবোধ ধারণ করতে না পারে, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিজয় নয়—গণতন্ত্রের পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।সুতরাং প্রশ্নটি কেবল একটি নির্বাচনের নয়; প্রশ্নটি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে। নির্বাচন যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান