ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি (১৭০০–১৮৫৮) মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু ক্রমে এটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে আনে। কোম্পানি প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং কর আদায়ের মাধ্যমে স্থানীয় শাসকদের উপর প্রভাব বিস্তার করত। তার কৌশলগুলোকে মূলত কয়েকটি মূল দিক দিয়ে সংক্ষেপে বোঝা যায়:

অর্থনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর কর আরোপ এবং মণি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি আয়ের বড় অংশ নিজের হাতে রাখত। এতে স্থানীয় জনগণের স্বাধীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হতো। রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় রাজা ও নায়কদের সাথে চুক্তি বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত করত। এতে কোম্পানির স্বার্থের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন সীমিতভাবে কাজ করতে পারত। সামরিক কৌশল: কোম্পানি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও দস্যু নীতি ব্যবহার করে বিরোধী গোষ্ঠী দমন করত। স্থানীয় বিদ্রোহ দমন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ছিল তাদের কৌশলের অংশ।

যদি আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা ভাবি, “ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির কায়দায়” বলতে বোঝানো যেতে পারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করা, যেমন—বিদেশি সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সম্পদ বা নীতি প্রভাবিত করা। অর্থাৎ সরাসরি শাসন না করেও অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে দেশে প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।

উপসংহারে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কায়দায় সরাসরি শাসন না হলেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা দুর্বল করার প্রবণতা আজও বিদ্যমান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাব যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে জাতীয় স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতএব, শক্তিশালী অর্থনীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলাই এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।

Posted in

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান