ডক্টর সফিকুর রহমানের নারীদের ঘরের বাইরে চলাচল সীমিত করার বক্তব্য শুধু একটি ভুল মন্তব্য নয়—এটি একটি ভয়ংকর মানসিকতার প্রকাশ।
এই বক্তব্য নারীদের ব্যক্তি হিসেবে অস্বীকার করার শামিল, মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত, এবং একটি স্বাধীন সমাজের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে নারীর স্থান ঘরের ভেতরে, তাহলে সেটি মতামত নয়—সেটি এক ধরনের আদর্শিক সহিংসতা।
নারী কোনো সম্পত্তি নয়,
নারী কোনো বোঝা নয়,
নারী কারও দয়ার ওপর বেঁচে থাকা সত্তা নয়।
নারী একজন পূর্ণ মানুষ—নিজস্ব চিন্তা, স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তের অধিকারী।
আজ নারী শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা।
এই নারীদের ঘরে আটকে রাখার চিন্তা মানে গোটা সমাজকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা।
এই বক্তব্য ধর্ম নয়, রাজনীতি
এই ধরনের বক্তব্যকে অনেক সময় ধর্মের মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নারীর স্বাধীনতা খর্ব করা কোনো ধর্মীয় আদর্শ নয়—এটি ক্ষমতার রাজনীতি।
ধর্ম কখনো অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায় না।
অন্যায়কে ধর্মের নামে বৈধতা দেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
সমাজের অর্ধেক মানুষকে থামিয়ে দিলে সমাজও থেমে যায়
একটি সমাজ যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরে বন্দি করে,
তাহলে সেই সমাজ কখনো উন্নত হতে পারে না,
সেই সমাজ কখনো ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না,
সেই সমাজ কখনো মানবিক হতে পারে না।
নারীর চলাচল সীমিত করা মানে—
শিক্ষা সীমিত করা,
অর্থনীতি সীমিত করা,
চিন্তাকে সীমিত করা,
ভবিষ্যৎকে সীমিত করা।
এই বক্তব্য বিপজ্জনক কেন?
কারণ এমন বক্তব্য:
নারীর প্রতি সহিংসতাকে উৎসাহিত করে পুরুষতান্ত্রিক দমননীতিকে শক্তিশালী করে তরুণদের মনে বিকৃত ধারণা তৈরি করে সমাজকে বিভক্ত করে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়
এটি শুধু একটি মন্তব্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। এবং সেই বার্তা হলো: নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এই চিন্তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
আমার অবস্থান স্পষ্ট
আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।
আমি এই চিন্তাধারাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
আমি নারীর স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সমানাধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াই।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না,
যেখানে মেয়েরা ভয় নিয়ে রাস্তায় হাঁটে,
যেখানে মেয়েদের স্বপ্নকে ‘অপরাধ’ বলা হয়,
যেখানে স্বাধীনতাকে ‘অশ্লীলতা’ বলা হয়।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—
যেখানে নারী তার ইচ্ছেমতো চলবে,
পড়বে, কাজ করবে, নেতৃত্ব দেবে,
এবং মাথা উঁচু করে বাঁচবে।
শেষ কথা
নারীকে ঘরে বন্দি করার চিন্তা মানে সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
এই যুদ্ধ আমরা মেনে নেব না।
এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে নীরবতা মানে সম্মতি।
আর আমি নীরব থাকব না।
আমি প্রতিবাদ করি।
আমি নিন্দা জানাই।
আমি নারীর পক্ষে দাঁড়াই।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান