ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি (১৭০০–১৮৫৮) মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু ক্রমে এটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে আনে। কোম্পানি প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং কর আদায়ের মাধ্যমে স্থানীয় শাসকদের উপর প্রভাব বিস্তার করত। তার কৌশলগুলোকে মূলত কয়েকটি মূল দিক দিয়ে সংক্ষেপে বোঝা যায়:
অর্থনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর কর আরোপ এবং মণি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি আয়ের বড় অংশ নিজের হাতে রাখত। এতে স্থানীয় জনগণের স্বাধীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হতো। রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় রাজা ও নায়কদের সাথে চুক্তি বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত করত। এতে কোম্পানির স্বার্থের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন সীমিতভাবে কাজ করতে পারত। সামরিক কৌশল: কোম্পানি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও দস্যু নীতি ব্যবহার করে বিরোধী গোষ্ঠী দমন করত। স্থানীয় বিদ্রোহ দমন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ছিল তাদের কৌশলের অংশ।
যদি আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা ভাবি, “ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির কায়দায়” বলতে বোঝানো যেতে পারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করা, যেমন—বিদেশি সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সম্পদ বা নীতি প্রভাবিত করা। অর্থাৎ সরাসরি শাসন না করেও অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে দেশে প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।
উপসংহারে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কায়দায় সরাসরি শাসন না হলেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা দুর্বল করার প্রবণতা আজও বিদ্যমান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাব যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে জাতীয় স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতএব, শক্তিশালী অর্থনীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলাই এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।
২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই অস্থিতিশীলতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা দুর্বল করে তুলেছে এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া এই সংকটের ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রথমত, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন এবং সহিংসতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট অস্থিতিশীলতাকে আরও তীব্রতর করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা সামাজিক অশান্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
তৃতীয়ত, সামাজিক অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং অপরাধপ্রবণতার বৃদ্ধি সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব দেখা দিচ্ছে, যা সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে তুলছে।
চতুর্থত, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সুশাসনের অভাব সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের দুর্বল প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করেছে। ফলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
উপসংহারে বলা যায়, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক অকার্যকারিতা একত্রে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিপন্ন করছে। এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং সামাজিক শান্তি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতএব, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এবং সর্বাধিক জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির যে প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হচ্ছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে না; বরং গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার পথ প্রশস্ত করবে।
গণতন্ত্র কি সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি বিলুপ্তির পথে?
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—যে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেটাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি এই দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দলটি দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। এমন একটি দলকে বাদ দিয়ে যদি কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন হতে পারে না।
১২ই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নির্বাচনকে সাধারণত “অসম্পূর্ণ নির্বাচন” (partial election) বলা হয়, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা সমান ও সর্বজনগ্রাহ্য নয়।
এই কারণেই আমি মনে করি, “ভোটকেন্দ্রে যাব না, ভোটও দেব না”—এটা কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি প্রতিবাদ। এটি এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গণতন্ত্র কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে বহুমত, বহুদল, ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হবে, জনগণের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
আজ আমাদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি কেবল একটি তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই, নাকি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া চাই? যদি উত্তর দ্বিতীয়টি হয়, তবে সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো বর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি। বরং সংলাপ, অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র টিকে থাকে। সুতরাং ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি এই মূল্যবোধ ধারণ করতে না পারে, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিজয় নয়—গণতন্ত্রের পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।সুতরাং প্রশ্নটি কেবল একটি নির্বাচনের নয়; প্রশ্নটি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে। নির্বাচন যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
৭ই মার্চ ১৯৭১ স্থান: রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), ঢাকা l বক্তা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রোতা: লক্ষ লক্ষ মানুষ, পুরো জাতিl
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। পূর্ব পাকিস্তানে দমন-পীড়ন, বৈষম্য ও সামরিক হুমকি চরমে ওঠে। এই সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু জাতির দিকনির্দেশনা দিতে ৭ই মার্চ ভাষণ দেন।
সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করেও স্বাধীনতার প্রস্তুতির স্পষ্ট নির্দেশ। অসহযোগ আন্দোলন: প্রশাসন, আদালত, অফিস—সব ক্ষেত্রে জনগণকে অসহযোগে অংশ নিতে বলা। সংগ্রামের ডাক: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” শৃঙ্খলা ও ঐক্য: ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা, কিন্তু শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান।
পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের পথে প্রস্তুত করে। কার্যত এটি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে।
২০১৭ সালে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে “Memory of the World Register”-এ অন্তর্ভুক্ত করে—বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান🇧🇩বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা।
বাঙালির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান—সবখানেই অগ্রণী ভূমিকা ৭ই মার্চ ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক ভাষণে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণা দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় ,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শশোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন অসাধারণ বক্তা, জননেতা ও সাহসী সংগ্রামী জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করতেন।
অমর বাণী
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
যারা আওয়ামী লীগ নিয়ে কতু কথা বলে ,তাদের ইস্পস্ত করে বলতে চাই ,খুব দূরে নয় অচিরেই শুনবো আবার শেখ মুজিবুর রহমানের অমর বাণী“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসার নাম , আওয়ামীলীগ 😍শেখ হাসিনা।
১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় দিন।১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পায়।
কেন যুদ্ধ শুরু হয়:…..::
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ছিল সংখ্যায় বেশি,কিন্তু তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভাষাগতভাবে বঞ্চিত ছিল।১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পাকিস্তানি সরকার ক্ষমতা দেয়নি।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হামলা চালায় (অপারেশন সার্চলাইট)। এর পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।নয় মাসের যুদ্ধ,এই হত্যাযজ্ঞের পর বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেন।নারী, শিশু, সাধারণ মানুষ—সবাই এই যুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার করেন।নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে।এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা সহজে আসেনি ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই বিজয় এসেছে দেশপ্রেম ও ঐক্যের শক্তি অপরিসীম.l
সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।তাঁদের আত্মত্যাগেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা ও লাল-সবুজের পতাকা।চিরস্মরণীয় আপনারা।জয় বাংলা! 🇧🇩.,জয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান•’????
বাংলাদেশ একটি বহুসাংস্কৃতিক, বহু ধর্মাবলম্বীর দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যালঘুরা—বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো—বিভিন্ন সময়ে ভৌমিক হামলা, জমি দখল, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং ধর্মীয় উগ্রতার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন সাধারণত নিম্নোক্ত রূপে দেখা যায়—
জমি দখল ও সম্পত্তি দখল ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা (মন্দির, গির্জা, বৌদ্ধ বিহার) হত্যা, মারধর ও ভীতি প্রদর্শন নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক হামলা সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনা
সংখ্যালঘু নির্যাতনের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দুর্বল আইন প্রয়োগ ধর্মীয় উগ্রপন্থা সামাজিক কুসংস্কার ও শিক্ষা ঘাটতি অর্থনৈতিক স্বার্থ (সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্য)রাষ্ট্র সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ নিলেও প্রয়োগের ঘাটতি প্রায়ই দেখা যায়। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যম এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ
হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে কঠোর শাস্তি।
শিক্ষা ও সচেতনতা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদের শিক্ষা জোরদার করা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা
সকল দলের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান।
জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা
হামলার পর পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ও মানসিক সেবা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি (২০২৪-২০২৫) সময়ে — অর্থাৎ গত কিছু মাসে — বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রভৃতি) বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরছি। এগুলো এই ইস্যুটির মাত্রা, প্রকৃতি এবং সাম্প্রতিকতা নির্দেশ করে — যাতে আপনি “নির্যাতনের কথা শুধু পুরনো” বললে এ ধরনের ফ্যাক্ট দেখিয়ে বোঝা যায় এই সমস্যা এখনও আছে।
Bangladesh Hindu Buddhist Christian Unity Council (BHBCUC)-র রিপোর্ট (২০২৪-২০২৫) ওই কাউন্সিলের তথ্যমতে, ৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় ৪৩২টি ভৌত (violence) ঘটনা minority-দের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকছে — মন্দির বা পুজাস্থানে হামলা, বাড়ি/দোকান দখল/লুটপাট, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক ভাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হয়রানি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে — 2025 Gangachara Hindu neighbourhood attack রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ায় (Gangachara Upazila, Aldadpur Balapara গ্রাম) ২৬–২৭ জুলাই ২০২৫: একটি হিন্দু পরিবারের উপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫–২০টি হিন্দু বাড়ি আক্রান্ত হয়, এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তার কারণে এলাকাগুলো ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। — এই ঘটনায় অভিযোগ করা হয় ধর্মীয় ভ্যুইষম্যের নামে আচরণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের অগাস্ট–ডিসেম্বরে এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে গণহিংসা-উদ্যোগ ও ভৌত হামলা BHBCUC-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২,৪৪২টি ধর্মীয় সংঘর্ষ / communal violence-র ঘটনা রিপোর্ট করা হয়। — রিপোর্টী ঘটনার মধ্যে ছিল — “হত্যা, যৌন হয়রানি, মন্দিরে হামলা, বাড়ি ও ব্যবসা দখল, ধর্মীয় বাক স্বাধীনতার নামে হয়রানি” — এবং আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা, কিশোর-কিশোরী, সবই ছিল। নির্বিচারে বিচার ও প্রতিকার পাচ্ছে না, বিচারহীনতার অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১,৪১৫টি রিপোর্ট করা ঘটনার মধ্যে ১,২৫৪টি “ভাইরিফায়েড (verified)” হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর প্রায় ৯৮% (১,২৩৪টি) ছিল “রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে” এবং মাত্র ২০টি ছিল প্রকৃত “সাম্প্রদায়িক (communal)” ঘটনা — যা সংখ্যালঘু কল্যাণ ও অধিকার সংগঠনগুলো ভিন্নমত পোষণ করে। — সহজ কথায়: সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন বা হামলা হলেও, অনেক সময় “রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট” বা “অভিযোগ” বলা হচ্ছে, যা অনেক পরিবারকে न्याय থেকে বঞ্চিত করছে।
স্থান-ভৌগোলিক বিস্তার ও বৃহৎ মাপকাঠি BHBCUC এবং অন্যান্য রিপোর্ট অনুসারে, এই হামলা/নির্যাতন শুধু একটি জেলা বা কয়েকটি জায়গায় সীমাবদ্ধ নয় — প্রায় সারাদেশে, অনেক বিভাগ ও জেলার (যেমন : চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, যশোর, নড়াইল প্রভৃতি) একাধিক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় betroffen হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে কখনোই দেশের অবস্থা এমন ছিল না”—
২০০৯–২০২৩ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জা ও সংখ্যালঘু বাড়িতে বড় আকারের সহিংসতা খুব বেশি দেখা যেত না। স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রীয় দমন, পুলিশি নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে শক্ত।আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০১0 দশক জুড়ে অপরাধ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন স্থিতিশীল ছিল। বড় ধরনের দাঙ্গা বা সারাদেশে বিস্তৃত সাম্প্রদায়িক টেনশন খুব কমই দেখা গেছে।অনেক সংখ্যালঘু সংগঠন নিজেরাই বলেছে—
উৎসব-পার্বণ পালনে বেশি স্বাধীনতা ছিল। পূজা, বড়দিন, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ইত্যাদিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা মিলত। হামলা হলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো।আওয়ামী লীগ সরকার ঐতিহাসিকভাবে—ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘বৈচিত্র্যকে সম্মান’, এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’এই নীতিগুলোতে জোর দিয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ের—সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, জমি দখল, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, আইনশৃঙ্খলার পত—এসব দেখা যায়, তখন সহজেই বলা যায়: “আগের মতো নয় — এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন, অনেকটাই অস্থির”
আমরা চাই আওয়ামী লীগ আবার দেশ শাসন করুক।
গত কয়েক দশকে তারা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, শিক্ষা, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আমরা মনে করি—
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রয়োজন রয়েছে।
দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়—
সেজন্যই আমরা চাই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে দেশকে নেতৃত্ব দিক।